চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধ বন্ধ, তরুণীর মৃত্যুতে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

চ্যাটজিপিটির পরামর্শে মৃগীরোগের ওষুধের মাত্রা কমিয়ে শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছিলেন ৩১ বছর বয়সী বাওয়েন ওয়ান। এরপর তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাঁর মা-বাবা। তাঁদের অভিযোগ, ওষুধ বন্ধের পর শারীরিক জটিলতার কথা জানালেও চ্যাটজিপিটি তাঁকে যথাযথ সতর্ক করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন চীনা তরুণী বাওয়েন। তিনি মৃগীরোগ নিয়ন্ত্রণে ল্যামোট্রিজিন নামের ওষুধ সেবন করতেন। তবে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কথা বলার দক্ষতা কমে যাচ্ছে এবং চাকরির সাক্ষাৎকারে সমস্যা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তিনি ওষুধের মাত্রা কমানোর বিষয়ে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ চান।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাওয়েনের অনুরোধে চ্যাটজিপিটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওষুধের মাত্রা ধীরে ধীরে কমিয়ে শূন্যে নামানোর একটি পরিকল্পনা তৈরি করে দেয়। এমনকি ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়ে রক্ত পরীক্ষা না করানোর সিদ্ধান্তেও তাঁকে সমর্থন জানায়।

বাওয়েনের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিকোলাস পুলুস জানিয়েছেন, রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস বিবেচনায় তিনি কখনোই তাঁকে ওষুধ বন্ধ করার পরামর্শ দিতেন না। তাঁর মতে, কার্যকর একটি ওষুধ বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া চিকিৎসায় অবহেলার শামিল হতো।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওষুধের মাত্রা কমানোর পর বাওয়েন বিভ্রান্তি, স্মৃতির অসংলগ্নতা ও শরীরে অস্বাভাবিক অনুভূতির কথা চ্যাটজিপিটিকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এসব লক্ষণকে সম্ভাব্য বিপদ হিসেবে চিহ্নিত না করে চ্যাটবটটি তাঁকে আশ্বস্ত করে। ওষুধের পরিবর্তনের সঙ্গে মস্তিষ্কের মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার কারণে এমনটা হতে পারে বলেও জানানো হয়।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুর দুই দিন আগে চ্যাটজিপিটিকে পাঠানো শেষ বার্তায় মাথাব্যথার কারণ জানতে চেয়েছিলেন বাওয়েন। জবাবে চ্যাটজিপিটি ব্যথাটিকে বিপজ্জনক নয় বলে উল্লেখ করে এবং এটিকে সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করে।

বাওয়েনের মা-বাবার অভিযোগ, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রেসক্রিপশনের ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন বা বন্ধ করার বিষয়ে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরামর্শ ঠেকাতে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে চ্যাটবটটির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে বাওয়েনের মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ ঘটনায় ব্যবহৃত চ্যাটজিপিটির সংস্করণটি পুরোনো ছিল। নতুন মডেলগুলো জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে—এমন পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালোভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *