আমেরিকার গ্রিনকার্ড স্পনসরদের নতুন নিয়ম চালু, অক্টোবর থেকে বাধ্যতামূলক নতুন আই-৮৬৪ ফরম, বাড়ছে কড়াকড়ি

              ষ্টাফ রিপোর্টার\ পরিবারভিত্তিক গ্রিনকার্ডের স্পনসরদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পরিবর্তন এনেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। ১লা অক্টোবর থেকে ‘অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট’ বা ফরম আই-৮৬৪-এর নতুন সংস্করণ (এডিশন: ০৮/২৪/২৬) ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে চলমান ট্রানজিশন পিরিয়ডের অংশ হিসেবে গত ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুরোনো (১০/১৭/২৪) এবং নতুন- উভয় সংস্করণই গ্রহণ করা হয়েছিলো।

              উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে অধিকাংশ পরিবারভিত্তিক গ্রিনকার্ড আবেদনের ক্ষেত্রে ‘আই-৮৬৪’ ফরমটি অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে স্পনসর মূলত মার্কিন সরকারের কাছে আইনগতভাবে প্রতিশ্রæতি দেন যে, কাঙ্খিত অভিবাসীর প্রয়োজন হলে তিনি আর্থিক সাহায্য প্রদান করবেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, স্পনসরকে তাঁর পরিবারের আকার বা ‘হাউসহোল্ড সাইজ’ বিবেচনা করে ফেডারেল প্রভার্টি গাইডের কমপক্ষে ১২৫ শতাংশ সমপরিমাণ আয় বা গ্রহণযোগ্য সম্পদের প্রমাণ দেখাতে হয়।

এর আগে গত ৩১শে আগস্ট ইউএসসিআইএস কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই নতুন সংস্করণ প্রকাশ করে এবং ওই দিন থেকেই তা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে। এতে প্রক্রিয়াধীন ও ডাকযোগে পাঠানো অসংখ্য আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩রা সেপ্টেম্বর আমেরিকান ইমিগ্রেশন লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (এআইএলএ) ও শীর্ষ অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান ‘বেনাচ পিটনি রাইলি’ ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তীব্র আইনি চাপের মুখে নতি স্বীকার করে ইউএসসিআইএস ৩০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দিতে বাধ্য হয় এবং গত ১লা অক্টোবর থেকে নতুন ফরম কার্যকর করার নতুন তারিখ নির্ধারণ করে।

              বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আলোকেই আর্থিক স্বচ্ছতার এই বাড়তি কড়াকড়ি আনা হয়েছে। ফলে এখন থেকে স্পনসরের আয়, সম্পদ ও আর্থিক দায়ের বিবরণী আগের চেয়ে অনেক বেশি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। স্পনসরের ব্যক্তিগত আয় নির্ধারিত সীমার নিচে থাকলে যোগ্য যৌথ স্পনসর কিংবা ফরম আই-৮৬৪এ-এর মাধ্যমে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের আয় যুক্ত করার সুযোগ বহাল রয়েছে।

              এই পরিস্থিতিতে ১লা অক্টোবরের পর আবেদন জমা দেয়ার ক্ষেত্রে পুরোনো ফাইল বা কম্পিউটারে সংরক্ষিত পুরোনো ফরম ব্যবহার না করে ইউএসসিআইএস-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ সংস্করণটি সংগ্রহ করার জন্য অভিবাসন আইনজীবীরা পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে ফরমের নিচে উল্লিখিত ‘এডিশন ডেট’ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি।

              আই-৮৬৪ মূলত মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান ও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বাবা-মাসহ ইমিডিয়েট রিলেটিভ এবং বিভিন্ন ফ্যামিলি-প্রিফারেন্স শ্রেণির অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। কিছু চাকরি-ভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট-এর ক্ষেত্রেও এটি প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষ করে যখন আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্দিষ্ট মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা আত্মীয়ের মালিকানা বা পিটিশনের সম্পর্ক থাকে।

              ইউএসসিআইএস-এর এই পরিবর্তন এমন সময়ে কার্যকর হচ্ছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিতেও পরিবর্তন এনেছে এবং অভিবাসীর আর্থিক স্বনির্ভরতার বিষয়টি গ্রিনকার্ড প্রক্রিয়ায় আরো গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে আবেদনকারীর পাশাপাশি তাঁর স্পনসরের আয়, সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতার তথ্য সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা এখন আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *