
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমস কর্মী আবু রায়হান তালুকদার হত্যাকাণ্ডে এক মাসেরও বেশি সময় পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই তরুণকে। বুধবার ভোরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন নিহত রায়হানের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা (১৯) এবং তাঁর বন্ধু সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল (২০)। দুজনের বাড়িই ফুলবাড়িয়া উপজেলার অনন্তপুর গ্রামে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর তাঁদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি, চাপাতি, লোহার রড, কাঠের গুঁড়ি এবং রক্তমাখা বালিশের কাভার উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজের ৯ দিন পর মিলেছিল খণ্ডিত মরদেহ
নিহত আবু রায়হান তালুকদার ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে।
গত ২ আগস্ট বিকেলে নিখোঁজের নয় দিন পর তাঁর বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও চাদরে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, মরদেহটি ১৫ টুকরা করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় ৪ আগস্ট নিহতের বড় ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, টাকা ও সম্পত্তি ভোগদখলের লোভে কেয়ারটেকার রাজু, তাঁর বন্ধু সোহেলসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রায়হানকে হত্যা করেন এবং লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ডোবায় ফেলে রাখেন।
পালিয়ে বেড়িয়েও শেষরক্ষা হয়নি
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফুলবাড়িয়া থানার এসআই শুভ্র সাহা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত দুই তরুণ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। নিজেদের ব্যবহৃত মুঠোফোন ভেঙে আগুনে পুড়িয়ে ফেলায় এবং কারও সঙ্গে যোগাযোগ না রাখায় শুরুতে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তদন্তে পরে জানা যায়, ৩ আগস্ট সিলেটের একটি হোটেলে দুজন এক রাত অবস্থান করেছিলেন। ওই হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তাঁদের গতিবিধি অনুসরণ শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে তাঁদের অবস্থান মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় নিশ্চিত করা হয়।
এরপর বুধবার ভোরে সেখানে অভিযান চালিয়ে রাজু ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অর্থ ও সম্পত্তির লোভের অভিযোগ
নিহতের বড় ভাই ও মামলার বাদী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রায়হানের অর্থ ও সম্পত্তির প্রতি লোভ থেকেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, রায়হান মানুষের জন্য অর্থ ব্যয় ও দান করতেন এবং ভালো আয় করতেন। সেই অর্থ ও সম্পত্তি নিজেদের ভোগদখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য, আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না এবং ঘটনার পুরো sequence কী ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া আলামতও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।