
সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে। রোববার বাংলাদেশ আজাদি পার্টি ও রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম নামে দুটি সংগঠন পৃথক অভিযোগ দাখিল করে। এর মধ্যে আজাদি পার্টি দুই সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেও রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম শুধু মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।
অভিযোগ জমা দেওয়ার পর আজাদি পার্টির আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. হাসিনুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন সময় সংঘটিত হত্যা, গুমসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি কোনো প্রতিবাদ করেননি। তাঁর দাবি, এসব ঘটনার বিষয়ে তাঁদের নীরবতা ছিল ‘মৌন সমর্থনের’ শামিল।
দলের প্রধান সংগঠক মুন্সি বোরহান মাহমুদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, কথিত ‘আয়নাঘর’ এবং অন্যান্য আলোচিত ঘটনার সময় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে ছিলেন আবদুল হামিদ ও সাহাবুদ্দিন। তাঁর ভাষ্য, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁরা সরকারের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি এবং সেই দায় এড়াতে পারেন না।
অন্যদিকে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস তাঁর অভিযোগে বলেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার পর গত বছরের ১৮ জানুয়ারি তাঁকে মহাখালী এলাকা থেকে তুলে নেওয়া হয় এবং পরদিন বাংলামোটর এলাকায় ফেলে রাখা হয়। তিনি এ ঘটনার তদন্ত দাবি করেন।
লিখিত অভিযোগে আল নূর মোহাম্মদ আরও দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, নির্যাতন, হত্যা ও গুমের ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোতে তাঁর কোনো আইনগত দায় ছিল কি না, তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করা মানেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি নয়। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই কোনো সিদ্ধান্ত হবে।