
কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজে প্রথমবার ভ্রমণ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এত উন্নত ও বিলাসবহুল উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রও তৈরি করতে পারত না। তাঁর ভাষায়, এমন একটি বিমান নির্মাণে যে বিপুল ব্যয় প্রয়োজন, তা যুক্তরাষ্ট্র করতে চাইত না।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নর্থ ডাকোটা সফরে যাওয়ার সময় প্রথমবারের মতো নতুন এই উড়োজাহাজ ব্যবহার করেন ট্রাম্প। প্রায় ৪০ কোটি ডলার মূল্যের বোয়িং ৭৪৭-৮আই মডেলের বিমানটি মূলত কাতারের রাজপরিবারের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। পরে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য উপহার দেওয়া হয়।
প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের উপযোগী করতে উড়োজাহাজটিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করা হয়েছে। অত্যাধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা, বহুমাত্রিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যাতে আকাশে অবস্থান করেও প্রেসিডেন্ট নির্বিঘ্নে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত ঝুঁকি দূর করতে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পুরো বিমানটি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়েছে।
নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের বাহ্যিক নকশাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিচের অংশ গাঢ় নীল, মাঝখানে লাল রঙের একটি সরু রেখা এবং উপরের অংশে নতুন রঙের সমন্বয় বিমানটিকে আগের তুলনায় ভিন্ন রূপ দিয়েছে।
তবে কাতারের এই উপহার যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। বিরোধীরা বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে এত মূল্যবান উপহার গ্রহণের নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও ট্রাম্প এসব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এমন একটি মূল্যবান উপহার ফিরিয়ে দেওয়া বোকামি হতো।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যে বিমান ব্যবহার করছেন, সেটি প্রায় ৩৫ বছর পুরোনো। ২০১৮ সালে দুটি নতুন প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান তৈরির জন্য বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি হলেও বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পটি এখনো শেষ হয়নি। সেই কারণে নতুন স্থায়ী বিমান বহরে যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কাতারের উপহার দেওয়া এই উড়োজাহাজ প্রেসিডেন্টের সরকারি সফরে ব্যবহার করা হবে।