
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলায় অস্থির হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজার। সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহকৃত তেলের দর ২.৩৭ শতাংশ বা ২.০৯ ডলার বেড়ে ৯০.১৯ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের মানদণ্ড ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (ডব্লিউটিআই)-এর দাম ২.৭ শতাংশ বা ১.৭১ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪.২০ ডলারে উঠেছে। ইউএস-ইরান সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া নিয়ে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সংকট ঘনীভূত হওয়ার পেছনে মূল কারণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে শুরু হওয়া নৌপথের জটিলতা। বৈশ্বিক সামুদ্রিক তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হলেও বর্তমানে উভয় পক্ষই একে অপরের জাহাজে হামলা চাচ্ছে এবং কড়া অবরোধ আরোপ করছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) হিসাব মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা আগের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনার মাত্রা প্রশমিত না হলে তেলের মূল্য আরও দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তেলের গচ্ছিত সঞ্চয় বা রিজার্ভ বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম অবস্থায় রয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ক্ষেত্রে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ও ডলার সংকট বাড়িয়ে অর্থনীতিকে জটিল পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেবে।