
নিজস্ব প্রতিনিধি\ কুমিল্লার দেবীদ্বারে একটি পাকা সড়কের বেশির ভাগ অংশ পুকুরে ভেঙে পড়েছে। ভাঙনের কবলে পড়া সড়ক দিয়ে বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন।
গত বুধবার (২২শে জুলাই) বিকেলে উপজেলার উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের দক্ষিণখাঁর এলাকার বাইতুস সুজুদ জামে মসজিদসংলগ্ন সড়কে দেখা গেছে এমন চিত্র।
জানা গেছে, সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আঁতাপুর বাজার থেকে ধামতী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। এ সড়কের দু’পাশ ঘেঁষে স্থানীয় প্রভাবশালীরা একাধিক পুকুর খনন করেছেন। এখন সড়কটির বেশির ভাগ অংশ এসব পুকুরে ধসে পড়ছে।
ফলে সড়কটি অনেকটা সংকীর্ণ হয়ে গেছে। সম্প্রতি টানা বর্ষণে সড়কে ফাটলের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। এতে সামান্য অসাবধানতায় যানবাহন পুকুরে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তৌফিকুর রহমান ও আজহারুল ইসলাম বলেন, এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করেন। দক্ষিণ খাঁর গ্রামের বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষও এই সড়ক ব্যবহার করেন। মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা মুসলিদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে এবং বৃষ্টির সময় চলাচল আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এই সড়কটি ব্যবহার করতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কুমিল্লা মেডিক্যালের চিকিৎসক ডা. শাহেদুল ইসলাম বলেন, সড়কটি কয়েক বছর আগে সংস্কার করা হলেও বছর না যেতে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এছাড়া সড়কের অনেকাংশে পুকুরের কারণে ভেঙে যায়। এ সড়ক দিয়ে গ্রামের মানুষ ঢাকা-কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করে। সড়কটি নির্মাণের সময় ঠিকাদার পুকুরের পাড়ে মাটি দেয়নি, যার কারণে বৃষ্টিতে সড়কটির বেশির ভাগ অংশ পুকুরে ভেঙে পড়ছে। সড়কটি দ্রæত সংস্কার করা না হয় তাহলে ভাঙার পরিমাণ আরো বাড়বে।
ধামতী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহীম খলিল বলেন, বর্তমানে এ সড়কে চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দেড়-দুই বছর আগে সড়কটির সংস্কার করে স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ। কিন্তু ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙা দেখা দেয়। সড়কের পাশে আলাদা বরাদ্দে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হলেও সেখানেও নিম্নমানের রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হয়। তখন আমরা বাধা দিয়েছিলাম, কিন্তু ঠিকাদার কথা শুনেননি। শুধু দক্ষিণখাঁর এলাকায় নয়; এ সড়কটি পাশে যতগুলো পুকুর আছে সব স্থানে সড়ক এমন ধসে পড়ছে। একটি রাস্তা ভালোমতো দুই বছরও টিকল না।
দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, সড়কটি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কয়েক বছর আগে সংস্কার করা হয়েছিল। বৃষ্টি ও যানবাহনের চাপে সড়কটির কয়েকটি অংশ দেবে গেছে। পুকুর মালিকেরা পুকুরের পাড় বেঁধে দিলে সড়কটি ভাঙত না। এটি মেরামতের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে।