
দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনতে ‘ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি জেলায় পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বাস্থ্যখাতে সমন্বিত তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সভায় প্রস্তাবিত ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের সম্ভাব্য কাঠামো, পরিচালনা পদ্ধতি এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় এর ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথম ধাপে কয়েকটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি চালু করা হবে। এ সময় প্ল্যাটফর্মটির কার্যকারিতা, সম্ভাব্য কারিগরি ও বাস্তবায়নগত সমস্যা, ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের সক্ষমতা যাচাই করা হবে। পাইলট প্রকল্প থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও ফলাফল পর্যালোচনার পর পর্যায়ক্রমে এর কার্যক্রম দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যসেবায় তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল এই ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে এর সুফল পান এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হয়।
বিশেষ করে রোগীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কাছে তা সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, নতুন এই প্ল্যাটফর্ম তৈরির ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে এটি যেন ব্যবহারবান্ধব, ব্যয়সাশ্রয়ী এবং দীর্ঘমেয়াদে সহজে পরিচালনাযোগ্য হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখতে হবে।
পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের পর এর ফলাফল যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি উপস্থাপনা দেন প্রকৌশলী জাকারিয়া স্বপন।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও ড. শাকিরুল ইসলাম খান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব মো. মামুনুর রশীদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।