
নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, গার্ড অব অনার গ্রহণ এবং একটি বৃক্ষের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিগুলোর একটি পালন করেন।
আজ সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।
এরপর তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন-বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
পরিদর্শন-বইয়ে রাষ্ট্রপতি লেখেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অকৃত্রিম দেশপ্রেমের বিনিময়েই বাঙালি জাতি অর্জন করেছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। জাতীয় স্মৃতিসৌধকে তিনি জাতীয় গৌরব, আত্মত্যাগ, ঐক্য ও দেশপ্রেমের চিরন্তন স্মারক হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর মন্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাঁদের দেশপ্রেম, নেতৃত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জাতীয় ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও লেখেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধানের আদর্শ এবং বীর শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, কল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মন্তব্যের শেষাংশে তিনি মহান আল্লাহর কাছে বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং বাংলাদেশের ওপর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বর্ষণের প্রার্থনা জানান। শেষে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’
শ্রদ্ধা নিবেদন ও পরিদর্শন-বইয়ে স্বাক্ষর শেষে রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি উদয় পদ্ম বৃক্ষের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধে পৌঁছালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তাঁকে স্বাগত জানান।
এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সামরিক সচিব জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জন বিভাগের সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং সাভার ক্যান্টনমেন্টের জিওসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।