
আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট শক্তি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা উন্নত হলেও ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ ক্রমেই সীমিত হচ্ছে। সর্বশেষ বৈশ্বিক সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিকরা বর্তমানে মাত্র ৩৫টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন। বিপরীতে আফ্রিকার দেশ উগান্ডার নাগরিকদের জন্য এই সুযোগ রয়েছে ৬৫টি দেশে।
সম্প্রতি প্রকাশিত বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে দেখা গেছে, বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে। সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আগের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়ে ৯৭তম হলেও ভ্রমণ-সুবিধার ক্ষেত্রে দেশের নাগরিকদের সুযোগ কমেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা ৩৭টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পেতেন। তবে সাম্প্রতিক হালনাগাদে দুটি দেশ এই সুবিধা প্রত্যাহার করায় সংখ্যাটি কমে ৩৫-এ নেমে এসেছে।
গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানও একই প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বাংলাদেশের নাগরিকরা ৩৯টি দেশে এবং ২০২৪ সালের শুরুতে ৪২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণের সুযোগ পেতেন। অর্থাৎ আড়াই বছরের ব্যবধানে এই সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের সংখ্যা সাতটি কমে গেছে।
অন্যদিকে উগান্ডার পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে বিশ্বের ৬৫টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা ভোগ করছেন, যা বাংলাদেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ১৯২টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। অপরদিকে তালিকার সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান, যার নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা রয়েছে মাত্র ২২টি দেশে।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দেশের পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা সেই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক আস্থা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক নীতির প্রতিফলন। ফলে বৈশ্বিক ভ্রমণ-সুবিধা বাড়াতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
পাসপোর্টের শক্তিতে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে উগান্ডা, ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা ৬৫ দেশে