
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা রোধে কঠোর নতুন আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, এ–সংক্রান্ত আইনের খসড়া ইতোমধ্যে তাঁর হাতে পৌঁছেছে এবং শুক্রবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এর কারণে লাখো শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার মারাত্মক মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। তাই এ ধরনের অপরাধ দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
তিনি জানান, গত আড়াই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে এবং তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দীর্ঘ সময় কাজ করে একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করেছে। এতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতামত যুক্ত করে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব সংসদে বিলটি উত্থাপন ও পাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এ আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয়। দলটির দাবি, শুধু বিচার নয়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে ভারতে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই মোদির এ ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার আশা করছে, নতুন আইন কার্যকর হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা সম্ভব হবে।